Agriculturelearning

পালংশাকের বিভিন্ন জাত পরিচিতি এবং উৎপাদন প্রযুক্তি

Please don't forget to share this article

পালংশাক বেশ জনপ্রিয়, পুষ্টিকর ও সুস্বাদু পাতা জাতীয় সবজি। এর ইংরেজি নাম Spinach ও বৈজ্ঞানিক নাম Spinacea olerocea. এ সবজি অধিক ভিটামিনসমৃদ্ধ। বাংলাদেশে সাধারণত শীতকালে এর চাষ করা হয়ে থাকে। আমাদের দেশে পালং শাকের ফলনও খুব ভালো হয়।

পুষ্টিগুণঃ পালংশাকে প্রচুর ভিটামিন ‘এ’ আছে। এছাড়াও পালং শাকে ভিটামিন বি১, বি২, বি৩, ও বি৬ প্রচুর পরিমাণে রয়েছে, যা চুল পড়া রোধ করে ও ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ায়।

পালংশাক উৎপাদন প্রযু্ক্তিঃ

মাটির প্রকৃতিঃ দোআঁশ এবং এঁটেল মাটি পালংশাক চাষের জন্য উপযোগী।

বীজ বপনের সময়: ভাদ্র-আশ্বিন (আগস্ট মাসের মাঝামাঝি থেকে অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি) মাসের মধ্যে বীজ বপন করা হয়।

বীজ বপনের হার:
প্রতি আইলে ⇒৩৫-৪০ গ্রাম
প্রতি শতকে ⇒১১৭ গ্রাম
প্রতি একরে ⇒৯-১১ কেজি
প্রতি হেক্টরে ⇒২৫-৩০ কেজি

বীজ বপনের দূরত্ব: ১০ সেমি দূরে দূরে বীজ বপন করতে হয়। তবে ছিটিয়েও বীজ বপন করা যায়।

অঙ্কুরোদগমের সময়: বীজ বপনের পর অঙ্কুরোদগমে প্রায় ৭-৮ দিন সময় লাগে।

জমি তৈরি ও বীজ বপনঃ

পালংশাকের জাত: পুষা জয়ন্তী, কপি পালং, গ্রিন, সবুজ বাংলা ও টকপালং। এছাড়া আছে নবেল জায়েন্ট, ব্যানার্জি জায়েন্ট, পুষ্প জ্যোতি ইত্যাদি।

জাতের নাম জীবনকাল (দিন) বপনের সময় বিঘা প্রতি ফলন অন্যান্য বৈশিষ্ট্যসমূহ
ইভান ২৫-৩০ সারা বছর ২৫০- ২৬৫ মণ হালকা সবুজ বোঁটা। পাতা গাঢ় সবুজ, চওড়া, পুরু ও রসালো। দ্রুত বর্ধনশীল ও উচ্চ ফলনশীল।
কপি পালং ২৫-৩০ সারা বছর ৯০-১০৫ মণ দ্রুত বর্ধনশীল, আকর্ষণীয় সবুজ
সাথী ২৫-৩০

২৫-৩০

সারা বছর ২২০-২৫০ মণ দ্রুত বর্ধনশীল, আকর্ষণীয় সবুজ। পাতা সবুজ ও নরম।
আংকিতা সারা বছর ২২০-২৫০ মণ লাল রং এর দ্রুত বর্ধনশীল পাতা জাতীয় সবজি ( লাল পালং )।

পালং শাক চাষে সার ব্যবস্থাপনাঃ পালং শাকের ভালো ফলন পাওয়ার জন্য প্রতি শতাংশ (ডেসিমাল) জমির জন্য নিম্নোক্ত হারে সার প্রয়োগ করতে হবেঃ

সারের নাম সারের পরিমাণ (শতকের জন্য)
পচা গোবর/কম্পোস্ট ৪০ কেজি
টিএসপি ১.০ কেজি
ইউরিয়া ৫০০ গ্রাম
এমওপি/পটাশ ৫০০ গ্রাম

প্রয়োগ পদ্ধতিঃ

পালংশাক চাষে অন্যান্য প্রযুক্তিঃ

আগাছা নিধন: জমিতে আগাছা দেখা দিলেই তা তুলে ফেলতে হবে।

সার উপরি প্রয়োগ: সময় মতো নিয়মানুযায়ী সার উপরিপ্রয়োগ করতে হবে।

সেচ প্রয়োগ: এ শাকের জন্য প্রচুর পানির প্রয়োজন হয়। তাই সারের উপরিপ্রয়োগের আগে মাটির ‘জো’ অবস্থা বুঝে সেচ দেওয়া প্রয়োজন। চারা রোপণের পর হালকা সেচ দেওয়া প্রয়োজন।

শূন্যস্থান পূরণ: কোনো স্থানের চারা মরে গেলে অথবা বীজ না গজালে সেখানে ৭-১০ দিনের মধ্যে পুনরায় চারা রোপণ করতে হয়।

মাটি আলগাকরণ: গাছের দ্রুত বৃদ্ধির জন্য মাটিতে বেশি দিন রস ধরে রাখা এবং মাটিতে যাতে সহজে আলো বাতাস প্রবেশ করতে পারে সেজন্য প্রতিবার পানি সেচের পর আল/জমির উপরের মাটি আলগা করে দিতে হয়।

গাছ পাতলা করণ: বীজ গজানোর ৮-১০ দিন পর প্রতি মাদায় ২টি করে চারা রেখে অতিরিক্ত চারা উঠিয়ে ফাঁকা জায়গায় রোপণ করতে হয়।

ক্ষতিকর পোকামাকড়: পালংশাকে মাঝে মাঝে পিপঁড়া, উরচুঙ্গা, উইপোকা এবং পাতাছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ দেখা যায়। আক্রমণ হলে আক্রান্ত গাছ তুলে ফেলতে হয়।

রোগ ব্যবস্থাপনা: পালংশাকের প্রধান রোগের মধ্যে রয়েছে-
১) গোড়া পচা রোগ
২) পাতার দাগ রোগ
৩) পাতা ধ্বসা রোগ।
এছাড়া পালংশাকে আরও দুইধরনের রোগ দেখা যায়। যেমন- ডাউনি মিলডিউ, পাতায় দাগ।

ফসল সংগ্রহ: বীজ বপনের এক মাস পর থেকে পালংশাক সংগ্রহ করা যায় এবং গাছে ফুল না আসা পর্যন্ত যে কোনো সময় সংগ্রহ করা যায়।

ফলন:
প্রতি আইলে⇒ ৮-১০ কেজি
প্রতি শতকে⇒ ২৮-৩৭ কেজি
প্রতি একরে⇒ ২৮০০-৩৮০০ কেজি
প্রতি হেক্টরে⇒ ৭-৯ টন

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

We are sorry that this post was not useful for you!

Let us improve this post!

Please don't forget to share this article